সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে হাসনাত ও সারজিসের ফেসবুক পোস্টে দলে অস্বস্তি-অসন্তোষ
কানাডায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা, ভোট ২৮ এপ্রিল
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের
হামাসকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানালো ফাতাহ
প্রকৃতিবিনাশী ও বৈষম্যপূর্ণ সব প্রকল্প বাতিল করতে হবে: আনু মুহাম্মদ
গণপরিষদের প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি
কারামুক্ত হলেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী
আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে: নাহিদ ইসলাম
লোহাগাড়ায় কাপড় কাটার কাঁচির আঘাতে জামায়াত নেতা খুন
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি, ২০২২
নবজাতক
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতেই প্রসূতি মায়ের পেট থেকে নবজাতক বের করতে গিয়ে শিশুটির কপালের একটি অংশ কেটে ফেলে নার্স ও আয়ারা।
এ ব্যাপারে রোগীর লোকজন প্রশাসনে অভিযোগ জানালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে চায়না বেগম নামের ওই নার্স, হাসপাতালের পরিচালক জাকারিয়া রহমান মোল্লা পলাশ, আল হেলাল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া বিকেলে একজন চিকিৎসক ও একজন দাদালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ওসি তদন্ত আব্দুল গাফফার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ উজানচর ময়েজউদ্দিন মণ্ডল পাড়ার শফিক খানের স্ত্রী প্রসূতি রুপা বেগমকে শনিবার ভোরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সকালে হাসপাতালটিতে কোনো লোক না পেয়ে অপেক্ষায় থাকে পরিবারটি। পরে দালালদের উস্কানিতে পার্শ্ববর্তী আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে তারা। সেখানে চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতি মায়ের যোনিপথের পাশ কেটে নবজাতক প্রসব করাতে গিয়ে শিশুটির কপালের একটি অংশ কেটে ফেলে নার্স ও আয়ারা।
এ দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রসূতির পরিবার থানায় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে হাসপাতালটির দুই পরিচালক ও নার্সকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রসূতির পরিবার আল-মদিনার হাসপাতালর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আহত নবজাতকের ফুপু হোসনেয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকাল আটটার দিকে ওই প্রাইভেট হাসপাতালের চায়না বেগম ও দুইজন আয়া ডাক্তার ছাড়াই প্রসূতির পেট থেকে বাচ্চা বের করতে গিয়ে শিশুটির কপালের একটি অংশ কেটে রক্তাক্ত করে ফেলে। পরে দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে নয়টি সেলাই দেওয়া হয় নবজাতকের। এই ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই আমরা।
আরও পড়ুন: নাসিক নির্বাচনে তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে: পুলিশ সুপার
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম জানান, এ জাতীয় ঘটনা কাম্য নয়। আমরা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে তিনজনকে আটক করেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে আমরা বলেছি।
ফরিদপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা করিম বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের উদাসীনতা মেনে নেয়া হবে না। আমরা প্রসূতি মায়ের অপারেশন ও এইজাতীয় কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি করছি এ ব্যাপারে মনিটরিং জোরদার করা হবে।
ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, আমরা প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির দুই পরিচালক ও অভিযুক্ত নার্সকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুপুর দুইটার পর থেকে হাসপাতালের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।