ঢাকা, বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬

২৩ পৌষ ১৪৩২, ১৮ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম
টাকা ছাপিয়েও ব্যাংক রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে হাসনাত ও সারজিসের ফেসবুক পোস্টে দলে অস্বস্তি-অসন্তোষ কানাডায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা, ভোট ২৮ এপ্রিল জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের হামাসকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানালো ফাতাহ প্রকৃতিবিনাশী ও বৈষম্যপূর্ণ সব প্রকল্প বাতিল করতে হবে: আনু মুহাম্মদ গণপরিষদের প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি কারামুক্ত হলেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে: নাহিদ ইসলাম লোহাগাড়ায় কাপড় কাটার কাঁচির আঘাতে জামায়াত নেতা খুন

ময়মনসিংহে ২৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘হুমগুটি’ খেলায় মানুষের ঢল   

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি, ২০২২

ময়মনসিংহে ২৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘হুমগুটি’ খেলায় মানুষের ঢল   

ঐতিহ্যবাহী ‘হুমগুটি’ খেলায় মানুষের ঢল

পৌষ মাসের শেষ দিনকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় পুহুরা। এ দিনে একই সময়ে একই স্থানে যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই হুমগুটি খেলা। ফুলবাড়িয়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা বন্দে হুমগুটি খেলায় অংশ নিতে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকেন মানুষ। বিকেলে খেলা শুরুর আগেই খেলাস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। 

এলাকাভিত্তিক একেকটি দলে শতশত খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে চলে গুটি দখলের শক্তির লড়াই। এ খেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর, দেওখোলাসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে চলে উৎসবের আমেজ। এদিকে হুমগুটি খেলাকে ঘিরে বসা গ্রামীণ মেলায় শিশুদের খেলনা ও খাবারের দোকানেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। খেলা দেখতে সপরিবারে এসেছিলেন অনেকে। 

আরও পড়ুন: ফেনীতে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই সহোদর নিহত

না যায়, ১৭৫৮ সালে মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশিকান্তের সঙ্গে ত্রিশাল উপজেলার বৈলরের হেমচন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে। পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূখণ্ডে দুই নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে প্রতিবাদী আন্দোলন। 

জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা করতে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা নামক স্থানে ‘তালুক-পরগনার সীমানায়’ এ গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। গুটি খেলার শর্ত ছিল গুটি গুমকারী এলাকাকে ‘তালুক’ এবং পরাজিত অংশের নাম হবে ‘পরগনা’। 

হুমগুটি খেলার গুটি। ছবি সংগৃহিত

 

জমিদার আমলের সেই গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হয়। এভাবেই তালুক পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ব্রিটিশ আমলে জমিদারী এই খেলার গোড়াপত্তন। জমিদার ও জমিদারি প্রথা না থাকলেও সেই হুমগুটি খেলাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এলাকাবাসী। খেলায় মুক্তাগাছা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ সদর ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দল বেঁধে শতশত খেলোয়াড় ও উৎসুক জনতা আসে খেলাটি দেখতে। 

আরও পড়ুন: মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ছড়ানো হলো ফেসবুকে

এ খেলায় একেক এলাকার একেকটি নিশানা থাকে। ওই নিশানা দেখে বোঝা যায় কারা কোন পক্ষের লোক। ‘গুটি’ কোন দিকে যাচ্ছে তা মূলত চিহ্নিত করা হয় নিশানা দেখেই। নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় খেলায়। এভাবে গুটি ‘গুম’ না হওয়া পর্যন্ত চলে খেলা। 

হুমগুটি সাংস্কৃতিক ফোরামের পরিচালক এবি ছিদ্দিক বলেন, জমিদার আমল থেকে হুমগুটি খেলা হয়ে আসছে। বংশপরম্পরায় আমার পূর্বপুরুষরা ঐতিহ্যবাহী খেলাটির আয়োজন করেছে। এখন আমরা করছি, এরপর পরবর্তী প্রজন্ম করবে। এভাবে যুগযুগ চলতেই থাকবে।

দেওখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম জানান, হুমগুটি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন খেলা। খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও খেলাটি দেখতে মানুষ জড়ো হয়ে থাকে।