ঢাকা, সোমবার, ০৫ জানুয়ারি, ২০২৬

২২ পৌষ ১৪৩২, ১৬ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম
টাকা ছাপিয়েও ব্যাংক রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে হাসনাত ও সারজিসের ফেসবুক পোস্টে দলে অস্বস্তি-অসন্তোষ কানাডায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা, ভোট ২৮ এপ্রিল জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের হামাসকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানালো ফাতাহ প্রকৃতিবিনাশী ও বৈষম্যপূর্ণ সব প্রকল্প বাতিল করতে হবে: আনু মুহাম্মদ গণপরিষদের প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি কারামুক্ত হলেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে: নাহিদ ইসলাম লোহাগাড়ায় কাপড় কাটার কাঁচির আঘাতে জামায়াত নেতা খুন

যে কারণে মানি লন্ডারিংয়ের স্বর্গভূমি সংযুক্ত আরব আমিরাত

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি, ২০২২

যে কারণে মানি লন্ডারিংয়ের স্বর্গভূমি সংযুক্ত আরব আমিরাত

বিশ্বের অসংখ্য দেশের রাজনীতিবিদ, ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মানি লন্ডারিংয়ের স্বর্গভূমি হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি সংগৃহীত

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাইরের দেশের অনেকে সেখানে বিনিয়োগ করেন। বিশেষ করে দুর্নীতি করে বিপুল অর্থের মালিক বনে যাওয়া ব্যক্তিরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশটিতে অর্থ নিয়ে যান। আর মরুর বুকে সম্পদ কিনে থাকেন তারা। 

বিনিয়োগের শর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্বিঘ্নে বসবাসের সুযোগ পেয়ে থাকে বিদেশিরা। যে কারণে বিশ্বের অসংখ্য দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মানি লন্ডারিংয়ের স্বর্গভূমি হয়ে উঠেছে দেশটি। এতে আরও ধনী হয়ে উঠেছে তারা।

কয়েক দশক আগেও উল্লেখযোগ্য সম্পদশালী দেশ হিসেবে বিশ্বে নাম ছিল না সংযুক্ত আরব আমিরাতের। সেখানে এখন তারা আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ভূখণ্ড। অর্থনীতির স্বাধীনতার সূচক, মুক্তবাণিজ্য আর স্বল্প করের জন্য দেশটির স্থান বর্তমানে বিশ্বে দশম। 

আরও পড়ুন: একই রানওয়েতে দুই বিমান, অল্পের জন্য বাঁচলেন কয়েকশ যাত্রী

এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে আমিরাত। সারাবিশ্বের বিমান যোগাযোগের হাব তথা কেন্দ্রস্থল দেশটি। প্রতিবেশী অন্যান্য আরব দেশগুলোর মতো এটিও বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদের অধিকারী। 

শুধু জ্বালানি পণ্য দুটি বিক্রির অর্থ থেকেই আমিরাতের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শাসকরা তেল-গ্যাস বহির্ভূত আয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন ও সেখানে বিনিয়োগে বিদেশিদের আকৃষ্ট করা তথা উৎসাহিত করা। 

যদি কেউ এদেশে বিনিয়োগ করতে চান বা আগ্রহ প্রকাশ করেন, তারা এখানে কর সুবিধাসহ নানা ধরনের আইনি সুরক্ষা পান। অধিকন্তু মরুর বুকে অবস্থানকারী নাগরিকদের আয়কর বাবদ গুণতে হয় না কোনো অর্থ।

আরও পড়ুন: মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া ভ্যাকসিন পাঠানো হচ্ছে গরিব দেশে

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিদেশি বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করে থাকে। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপগুলো কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের বিনিয়োগ। 

ধরা যাক-দুবাই নগরীর কথা। এটি আমিরাতের সপ্তম প্রাদেশিক শহর। কেবল একে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বিলিয়ন ডলারের অসংখ্য বৃহৎ প্রকল্প। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের উদারতার কারণেই এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে পছন্দনীয় গণ্তব্য হয়ে উঠেছে। 

বিনিয়োগের সঙ্গে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে চলতে পারে, সেজন্য আরব আমিরাতকে গড়ে তোলা হয়েছে বিনিয়োগ বান্ধব দেশ হিসেবে। নাগরিক সুবিধা এমনভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে জীবনমানের কাছে দেশটি অনেক উন্নত দেশের কাছেও ঈর্ষণীয়। 

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আশেপাশের দেশগুলোর চেয়ে এটি বেশি উদার। সেখানে প্রচুর ফ্যাশন ও নাইট ক্লাব রয়েছে। যেগুলোতে উন্মুক্তভাবে ভোগবিলাস করা যায়। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসলামি মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। যেমন-এখনও সেখানে মদের ওপর কর দিতে হয়। প্রকাশ্যে মদ্যপানে নিরুৎসাহিত করা হয়। বিবাহপূর্ব সম্পর্ক কুচোখে দেখা হয়। 

আরও পড়ুন: শরিয়াহ্ আইনের দেশে প্লেবয় সুলতান

আরব আমিরাতে নাগরিকত্ব পাওয়া অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর চেয়ে অনেক সহজ। যদিও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নেই। তবে তাদের ভিসা নবায়ন চুক্তি একেবারে সরল। 

সম্প্রতি ১০ বছর ভিসা মেয়াদ চালু করেছে দেশটির সরকার। ফলে বিনিয়োগকারীরা চাইলে এখন সেখানে কয়েক দশক থেকে যেতে পারেন। এ কারণেই বহু দেশের কালো টাকার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আরব আমিরাত। 

সাধারণত, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিরাপদে বসবাসের জন্য দেশটিকে বেছে নেন। তাই অবৈধ অর্থ রাখার জন্য হেভেন হয়ে উঠেছে এটি।